দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রজনন মৌসুম ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে তিন মাস বন্ধ থাকার পর পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে সুন্দরবন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় উপকূলীয় এলাকায় ফিরেছে কর্মচাঞ্চল্য। তবে প্রথম দিন সকাল থেকেই টানা বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাস থাকায় অনেক পর্যটক ও বনজীবী বনে প্রবেশ করতে পারেননি।
প্রতি বছর ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটকসহ সাধারণ মানুষের প্রবেশ, মাছ ধরা ও অন্যান্য বনজ সম্পদ আহরণ বন্ধ থাকে। এ সময়টাকে বনের প্রাণী ও জলজ জীবের প্রজনন মৌসুম হিসেবে বিবেচনা করে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক মশিউর রহমান জানান, নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার প্রথম দিন দুপুর ২টা পর্যন্ত ১৫৯টি নৌযানের পাস দেওয়া হয়েছে। এসব নৌযানের মাধ্যমে চার শতাধিক জেলে-বাওয়ালি সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছেন।
তিনি বলেন, সাতক্ষীরা রেঞ্জের চারটি স্টেশন থেকে মাছ ধরা ও পর্যটনের জন্য এ মৌসুমে ২ হাজার ৯৩৮টি বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট নবায়ন করা হয়েছে। পর্যটকদের জন্য কলাগাছি ও দোবেকি ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জেলেদের নিরাপত্তার বিষয়ে মশিউর রহমান বলেন, সুন্দরবনের ভেতরে কোস্টগার্ডের সঙ্গে যৌথ টহল অব্যাহত রয়েছে। দস্যুদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুন্দরবনের বর্ষাকালীন রূপ পর্যটকদের কাছে বরাবরই আকর্ষণীয়। বৃষ্টিতে ভেজা গাছপালা, নদী-খালের বাড়তি পানি আর মেঘলা পরিবেশে বনের ভিন্ন রূপ দেখতে প্রতি বছরই পর্যটকেরা ছুটে আসেন। এবারও নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগেই পর্যটনকেন্দ্রগুলো প্রস্তুতি নেয়। কিন্তু প্রথম দিনের বৈরী আবহাওয়া সেই আয়োজন অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ এলাকার টাইগারপয়েন্ট রিসোর্টের ব্যবস্থাপক আব্দুল হামিদ বলেন, সুন্দরবন বন্ধ থাকায় গত তিন মাস তাদের স্টাফদের কঠিন সময় পার করতে হয়েছে। বন খুলে দেওয়ার দিনটি তাদের জন্য আনন্দের হলেও আবহাওয়ার কারণে পর্যটকেরা বনে যেতে না পারায় কিছুটা হতাশা তৈরি হয়েছে।
লিডার্স হোস্টেলের কর্মকর্তা অসিত মণ্ডল জানান, তাদের অতিথিশালায় পর্যটক রয়েছেন। কিন্তু আবহাওয়া খারাপ থাকায় তারা কোথাও যেতে পারেননি।
বরসা রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, তাদের সব কক্ষ অতিথিতে পূর্ণ। তবে বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের কারণে কোনো অতিথিই প্রথম দিন সুন্দরবনের ভেতরে যেতে পারেননি।
আকাশলীনা ইকো রিসোর্টের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, সংযোগ সড়কের সংস্কারকাজ শেষ হলে এবং আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক মুনিয়া ও ইমরান হোসেন বলেন, সুন্দরবনের সৌন্দর্য দেখতে এসেছিলেন তারা। কিন্তু বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের কারণে প্রথম দিন বনে ঢুকতে পারেননি। আবহাওয়া ভালো হলে পরদিন বনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
শিক্ষার্থী রাইসা তাসনিম ছোঁয়া বলেন, মুন্সীগঞ্জ ও নীলডুমুরে গিয়েও আবহাওয়ার কারণে বনে প্রবেশ করতে না পারায় তার মন খারাপ হয়েছে।
আরেক পর্যটক তাহমিদ হাসান সজীব প্রথম দিনের অভিজ্ঞতায় কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেন। তবে সৈকত নামের এক পর্যটক বলেন, বৃষ্টিতে ভেজা সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাকে মুগ্ধ করেছে।
রিফাত আবির সৈকত জানান, নানা-নানু ও আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে প্রথম দিন সুন্দরবনে প্রবেশের চেষ্টা করেও সফল হননি। পর্যটকদের জন্য সুন্দরবনের ভ্রমণসেবা আরও সহজ ও উন্নত করার জন্য বন মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
পর্যটন নৌকার মাঝি সাগর বলেন, আবহাওয়া ভালো হলে তারা ট্রলার নিয়ে বনের দিকে যাত্রা করবেন।
অন্যদিকে নীলডুমুরের জেলে সবদুল গাজী বলেন, দীর্ঘদিন পর পাস পেয়ে তারা আনন্দিত। তবে সুন্দরবনে দস্যু আতঙ্ক থাকলেও জীবিকার প্রয়োজনে তাদের বনে যেতে হয়।
সুন্দরবন ঘিরে সাতক্ষীরাসহ উপকূলের কয়েকটি জেলার মানুষের জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। বনজীবী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, বনকেন্দ্রিক জীবিকা নির্বাহকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পর্যটনসেবার মান উন্নত করা হবে।
যে আই